বিএনপি সরকার গঠনের আট মাস অতিক্রান্ত হলেও দুর্নীতি রোধে কার্যকর ও জোরালো কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর ড. ইফতেখারুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার যেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি, তেমনি বর্তমান বিএনপি সরকারও তা নিয়ে দৃশ্যত অগ্রসর হয়নি। অথচ ধারাবাহিক দুর্নীতির কারণে ২০২৫ সালেও দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
বিগত সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে মেগা প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি, ব্যাংক লুট এবং বিভিন্ন অলিগার্ক ও পরিবারের মাধ্যমে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারায় পৌঁছায়। যেখানে ভিয়েতনাম অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটিয়ে ২০২৪ সালে দারিদ্র্যহার ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছে এবং মাথাপিছু জিডিপি ৪ হাজার ৮০৬ ডলারে উন্নীত করেছে, সেখানে লাগামহীন দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার এখনো ২১ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৩৫ ডলারে আটকে আছে।
ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ নাগরিকেরা এখনো সরকারি অফিস, ভূমি ব্যবস্থা, কাস্টমস, ভ্যাট, আয়কর ও বিআরটিএতে ঘুষ-দুর্নীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। বিচার বিভাগের দুর্নীতি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও অকার্যকর হয়ে রয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান এই সমস্যা মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ না নেওয়াকে বর্তমান সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো