একবার, দুবার, তিনবার—এভাবে পরপর চারবার জাল ফেলেও মাছের দেখা পেলেন না পরিমল রায়। প্রতিবারই খালি জাল তুলে হতাশ হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার কার্তিকতলা গ্রামের এই বাসিন্দা। পাশে থলে হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সুজন রায় তখন সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘জাল ফেলেক, এইবার বড় একখান মাছ উঠিবে।’বন্ধুর কথায় শেষবারের মতো জাল ফেললেন পরিমল। ঝপাৎ করে পানিতে ডুবে যাওয়া জালটি টেনে তুলতেই দেখা গেল, সেখানে আটকে আছে দুটি পুঁটি মাছ।
ছোট্ট এই প্রাপ্তিতেই মুখে হাসি ফুটল তাঁর। মাছ মিলুক বা না মিলুক, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সুক নদের ওপরের বুড়ির বাঁধে (জলকপাট) পরিমলের মতো এমন অনেক মানুষের কাছে মাছ ধরার আনন্দটা শুধু মাছ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধু-স্বজন নিয়ে দলবেঁধে মাছ ধরা, খুনসুটি; জাল ফেলা আর তাতে মাছ উঠে আসা—সব মিলিয়েই এটা তাঁদের জন্য একটা উৎসব।গত শুক্রবার রাতের আঁধার তখনো কাটেনি। আবছায়ায় চারপাশ থেকে ভেসে আসছিল ঝপাৎ ঝপাৎ শব্দ।
একটু একটু করে পুব আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে পড়তেই দৃশ্যমান হয়ে উঠল সেই শব্দের উৎস।
সূত্র: প্রথম আলো