প্যারিসসহ ফ্রান্সের শহরগুলোতে যে বিদ্রোহের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, তা প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর অধীন দেশটিকে গ্রাস করা সংকটের গভীরতাকেই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি ক্ষোভের কোনো সাময়িক বিস্ফোরণ নয়। এর সঙ্গে ১৯৬৮ সালের মে মাসের সেই ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থানের বেশ মিল রয়েছে। একটি ছাত্রবিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত একটি জাতীয় উত্তাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল এবং যার প্রভাব আজও ফ্রান্সের সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করে চলেছে।
মাখোঁর শাসনকালকে যদি একটিমাত্র শব্দে সংজ্ঞায়িত করতে হয়, তবে সেই শব্দ হলো ’ক্ষোভ’।
‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন থেকে শুরু করে পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মঘট, কিংবা শহরতলিগুলোর দাঙ্গা থেকে আজকের এই বিক্ষোভ—ফ্রান্স যেন এক টানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।দেশের সব সমস্যার পেছনে যে মাখোঁ একাই দায়ী, তা নয়; তবে ফ্রান্সের জনগণের প্রতি, বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকান ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফ্রান্সের নাগরিক, এমনকি ফ্রান্সের আফ্রিকান অংশীদার দেশগুলোর প্রতি নিজের অহংকার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিষাক্ত করে তুলেছেন।ফ্রান্স কেন আন্দোলনকারীদের ওপর এত সহিংস হয়ে উঠছেএই বিদ্রোহের শিকড় প্রোথিত রয়েছে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভ্যন্তরীণ সংকটে—ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, স্থবির বেতনকাঠামো, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ছড়িয়ে পড়া দারিদ্র্য।
সূত্র: প্রথম আলো