লেখক আহমেদ খান হীরকের গল্প ‘ভয়’–এ কিশোর রবিন জানালায় সাদ্দাম হোসেনের কণ্ঠের টোকা শুনে নিজের দাদুর শৈশবের এক রহস্যময় ও ভীতিপ্রদ স্মৃতি মনে করে। দাদুর বর্ণনায় উঠে আসে পাগলা নদীর তীরের জীবনের কথা, যে নদীর ওপারে যাওয়া সবার জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী নদীর ওপারটি ছিল ‘পিশাচপুরী’, যেখানে বাস করত যে কারও রূপ ধারণে সক্ষম ‘ভোলা’ নামের অশরীরী সত্তা।
শৈশবে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় দাদু জামাল ও তার বন্ধু শহীদুল নদীর ওপারের বড় বড় আমগাছ দেখে সেখানে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে গ্রামের ছানা জিলাপি বিক্রেতা রহমত চাচা তাদের জানান, ওসব আমবাগান মূলত মানুষকে ফাঁদে ফেলার জন্য পিশাচদের তৈরি এক মায়া বা বিভ্রম।
রহমত চাচার বয়ানে জানা যায়, দুই বছর আগের এক অমাবস্যায় আম কুড়ানোর কথা বলে জয়নবের ছোট ছেলে ভোলার খপ্পরে পড়ে সেই পিশাচপুরীতে চলে যায়। সেখানে অমাবস্যার বদলে পূর্ণিমার আলোয় পুষ্কুনি ঘিরে পিশাচ ও রূপসী পরীদের মেলা বসেছিল। এক পরীর মায়ায় ছেলেটি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তিন অমাবস্যা পর চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে।
সূত্র: প্রথম আলো