রোমান পুরাণে জানুস এমন এক দেবতা, যাঁর দুটি মুখ। একটি মুখ অতীতের দিকে, অন্যটি ভবিষ্যতের দিকে। দরজা, প্রবেশপথ ও পরিবর্তনের এই দেবতার প্রতীকী তাৎপর্য হলো, কোনো রাষ্ট্রের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে একই সঙ্গে তার অতীতের দিকে তাকাতে হয়। বাংলাদেশের সংবিধান দিবসও আমাদের সামনে তেমনই একটি দ্বিমুখী আয়না তুলে ধরে। একদিকে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা–উত্তর গণপরিষদ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার।
অন্যদিকে সংবিধানের নামে ক্ষমতার বৈধতা প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ ইতিহাস।খুব কম দেশেই বাংলাদেশের মতো যেখানে রাজনীতিতে সংবিধান এত গুরুত্বপূর্ণ অথচ রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে সংবিধান দিবস এত অনুজ্জ্বল কেন? যে দলিলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষ নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করতে চায়, সেই দলিলের জন্মদিনই কেন আমাদের রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠল না।
এই প্রশ্ন নিছক একটি দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে নয়, এটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংস্কৃতি–সংশ্লিষ্ট এক গভীর রাজনৈতিক প্যারাডক্স।বাংলাদেশের সংবিধান দিবস সরকারি স্বীকৃতি পায় ২০২২ সালে, সংবিধান গৃহীত হওয়ার ৫০তম বছরে।
সূত্র: প্রথম আলো