ভোরবেলা কীর্তনখোলা নদীর কুয়াশা ভেদ করে যখন লঞ্চের সাইরেন বাজে, মনে হয় লঞ্চের চাকার সঙ্গে সঙ্গে যেন পেছনের দিকে সরে যাচ্ছে কয়েক শতাব্দী। স্টিমারঘাটের পন্টুনে পা রাখতেই নাকে এসে লাগে সুপারিপাতার গন্ধ আর পুরোনো ইটের স্যাঁতসেঁতে সুবাস। এই সুবাসই তো বরিশাল।বরিশাল বাংলাদেশের মানচিত্রের এক জীবন্ত আখ্যান। এখানকার একেকটি নদী আর ইটের কোনায় লুকিয়ে আছে ইতিহাসের নানা জীবন্ত চরিত্র।
গল্পের সুতা টানলে সবার আগে ভেসে ওঠেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। শহরের অলিগলি পেরিয়ে একটু ভেতরে হাঁটলেই শোনা যায় তাঁর সেই চিরচেনা আক্ষেপ—‘বাংলার রূপ আমি দেখিয়াছি, তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’। এই বরিশালের আকাশ, ধানখেত আর জলের ছবিই তো তাঁর কবিতার রক্তকোষ।
পাশেই ছায়া হয়ে আছেন জননী কবি কুসুমকুমারী দাশ, যিনি লিখেছিলেন, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’।বরিশাল বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে থাকা এক মহাকাব্যিক রূপান্তর।
সূত্র: প্রথম আলো