ফুল আমার ভীষণ প্রিয়,তবু অভিমানে নিইনি কোনো উপহার—তাতে কীই–বা হয়েছে?সব চাওয়া কি পূর্ণতা পায়,সব অভিমান কি উপহারে মুছে যায়?যদি কোনো দিন ভালোবাসো আমায়,যদি কোনো নীরব ক্ষণে মনে পড়ে,আমার কবরের পাশে একটি জারুলগাছ লাগিয়ে দিয়ো।বেগুনি ফুল ফুটুক তার ডালে ডালে,আমার না-বলা কথাগুলো মিশে থাকুকবাতাসের আনমনা গানে।সুরা ফাতিহা পড়ে দোয়া করো,একটু জিয়ারত করে এসো—পৃথিবীর সব ব্যস্ততা পেরিয়ে,ক্ষণিকের জন্য হলেও,বসে থেকো আমার স্মৃতির পাশে।এখন আর শান্তির দরকার নেই,দরকার নেই কোনো উপহারেরও।বুকে জমে থাকা যে অভিমানআজ পাথরের মতো ভারী,সময়ের অদৃশ্য ইশারায়একদিন হয়তো ধুলো হয়ে যাবে।শুধু এক যুগ পরে,যদি কখনো যাও আমার কবরের পাশে,জারুলের ঝরেপড়া পাতাগুলোএকটু ভালোবেসে কুড়িয়ে দিয়ো।আমি তো আর কিছু চাইব না,নীরব মাটির গভীরে শুয়ে থাকব—কবরের শেওলাধরা নীরবতায়।শুধু জারুলের বেগুনি ফুল হয়েতোমার পৃথিবীর কিনারায়,সন্ধ্যার শেষ আলোয় ভেসে থাকাএকটুখানি স্মৃতি রেখে যেতে চাই।শুধু মনে রেখো—আমি নেই, তবু জারুল ফুটবে;তার বেগুনি নীরবতায়ঝরেপড়া প্রতিটি পাপড়ির মতো,হয়তো একদিনআমাকেই খুঁজে পাবে।
সূত্র: প্রথম আলো