একটা ভীষণ রকমের খুনখারাবি আর ঘৃণার ছায়া, একটা বোধহীন ভোঁতা যন্ত্রণা, জালে আটকে পড়া মাছের মতো অসহায়ত্ব।অতল গহ্বর।করোটিতে নানা অনুভূতি, কোনটা কখন তার কর্তৃত্ব নিচ্ছে, তা ধরা যাচ্ছে না। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি, শুয়ে আছি ধবধবে সাদা চাদরের একটা বেডে। হাসপাতাল। জানালা দিয়ে একটা দুর্গম পাহাড়ি ছায়া দেখা যায়। কান পাতলে সকালের ব্যস্ততা ভেসে আসে। ফিনাইলের গন্ধে ভরপুর চারপাশ।একটা মিশনারি হাসপাতাল।
দেয়ালে উল্টো পাশে যিশু অভয় দিচ্ছেন।সাদা পোশাকের কোমল মুখের একজন নার্স এলেন। এসে দারুণ উচ্ছ্বসিত গলায় বললেন, আপনার জ্ঞান ফিরেছে?তিনি কাউকে ডাকলেন।একটা হন্তদন্ত পায়ের আওয়াজ।একজন বয়স্ক লোকের মুখ দেখতে পেলাম। সাদা চামড়া, ধূসর চুল আর নীলচে চোখের এক বিদেশি।অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে।বয়স্ক লোকটির গলায় স্বস্তি। তাঁর হাতের স্টেথো জানান দিচ্ছে তিনি চিকিৎসক। স্টেথোর ডায়াফ্রাম তিনি বুকে চেপে ধরলেন।
শুনতে চাইছেন আমি কিছু লুকিয়েছি কি না বুকের চামড়া আর মাংসপিণ্ডের দেয়াল দিয়ে।জ্বর এখনো কমেনি।
সূত্র: প্রথম আলো