জীবাণু শব্দটির সঙ্গে আমাদের পরিচয় সেই ছোটবেলা থেকেই। ছোটবেলায় জ্বর-সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের কাছে গেলে প্রায়ই শুনতাম—‘ভাইরাল ফিভার।’ তখন প্রশ্ন করতাম, ‘ভাইরাল আবার কী?’চিকিৎসক খুব সহজ করে বোঝাতেন—ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র একধরনের জীবাণু, যা খালি চোখে দেখা যায় না। বিভিন্ন ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আবার ভাইরাস ও অন্যান্য অণুজীবকে কেন্দ্র করে রোগ প্রতিরোধ, টিকা উন্নয়ন ও বিভিন্ন জৈবপ্রযুক্তিগত গবেষণাও পরিচালিত হয়।
ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রটোজোয়া এবং আরও নানা ধরনের অণুজীব আমাদের পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সেখান থেকেই হয়তো জীবাণু সম্পর্কে আমার প্রথম কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। পরে বুঝেছি, সব অণুজীব মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং অণুজীবের বিশাল একটি অংশ পরিবেশ, খাদ্য, কৃষি, শিল্প, মানবদেহের স্বাভাবিক জীবপ্রক্রিয়া এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিছু অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে, আবার কিছু অণুজীব মানুষের উপকার করে এবং রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখে।এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় অণুজীবজগৎকে জানা, তাদের বৈশিষ্ট্য, আচরণ, পরিবর্তন, রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রণ এবং উপকারী ব্যবহার সম্পর্কে গবেষণা করাই অণুজীববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।
সূত্র: প্রথম আলো