২০২৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ স্বীকৃতি পায় তৌফিক আল-জাইদির চলচ্চিত্র নোরা। ১৯৯০-এর দশকের পটভূমিতে নির্মিত এ সিনেমায় দেখা যায়, নাদের নামের এক প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক গোপনে ক্যানভাসে ছবি আঁকেন, আর নোরা নামের এক অবরুদ্ধ তরুণী নিজের মুখাবয়ব ফুটিয়ে তোলার আকুতি নিয়ে তাঁর মুখোমুখি হয়। নোরার প্রতিকৃতি অঙ্কন কোনো অনৈতিক প্রেমের রূপ নেয় না; বরং তা হয়ে ওঠে আত্মপ্রকাশের মাধ্যম।
এটি দেখায় যে প্রতিকৃতি আঁকা স্রষ্টার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বরং আত্মিক অস্তিত্ব উপলব্ধির নজর বা দৃষ্টির প্রকাশ। চলচ্চিত্রটি আলোছায়ার খেলা ও নিস্তব্ধতার মাধ্যমে ‘শালীনতার ব্যাকরণ’ মেনে ধর্মীয় গোঁড়ামির বিপরীতে দাঁড়ায়।
এ চলচ্চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৬৫ সালের বাংলাদেশি চলচ্চিত্র রূপবান-এর কথা; এ ছবিতে রূপবানের সতীত্বের প্রতিকৃতি আঁকার ঘটনাটি গ্রামীণ নারীদের সিনেমা হলে যাওয়ার সামাজিক বৈধতা দিয়েছিল।১৯৭০-এর দশকের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সিনেমা হলের ওপর প্রথাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ছিল।
সূত্র: প্রথম আলো