গন্ধমতী ঈদগাহ মাঠে তখন ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) জানাজার প্রস্তুতি চলছে। চারপাশে কয়েক শ মানুষ। সবাই অপেক্ষায়, শেষবারের মতো অপ্রতিমকে বিদায় জানাবেন। হঠাৎ চোখে পড়ল কয়েকজন কিশোরকে। পরনে বিদ্যালয়ের পোশাক। অন্য সবার মতো তারাও দাঁড়িয়ে আছে সারিতে। চোখেমুখে অন্য রকম শূন্যতা। কাছে গিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে ওই কিশোরেরা জানাল, তারা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপ্রতিম তাদের বন্ধু ও সহপাঠী।
বন্ধুকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এসেছে তারা। বিদ্যালয়ের ক্লাস ফেলে একসঙ্গে এসেছে ২৩ সহপাঠী।তাদের একজন ইসমাইল হোসেন। সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী কতজন, জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘এখন ৫৩ জন, একজন তো কমেই গেল।’ কথাটি বলার সময় কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে ইসমাইলের। বলল, অপ্রতিম সবার সঙ্গে মিশত। খুব ভালো ছেলে ছিল।
কিছুটা থেমে ইসমাইল বলল, ‘আমাদের বন্ধুকে যারা হত্যা করেছে, আমরা তাদের ফাঁসি চাই।’গতকাল শনিবারও যাদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, আজ সেই বন্ধুর জানাজায় দাঁড়াতে হবে—এ বাস্তবতাই যেন মেনে নিতে পারছিল না অপ্রতিমের সহপাঠীরা।
সূত্র: প্রথম আলো