সিনেমা দর্শক ছাড়া অসম্পূর্ণ। বরং দর্শকের চোখেই তা পূর্ণতা পায়। সত্যজিৎ মনে করতেন, একজন পেইন্টার বা কবি তাঁর সৃষ্টিশীলতা বা সৃষ্টিকর্ম নিজের মধ্যে রেখে দিতে পারেন। দর্শক বা পাঠকের সামনে তাকে নিয়ে আসতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা সেখানে নেই। কিন্তু দর্শকের সামনেই শুরু হয়ে সিনেমার প্রকৃত জীবন। এই দর্শকের স্বরূপ আবার একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ কেউ যেমন মনে করেন দর্শককে যা খাওয়ানো হয়, দর্শক তা–ই খান।
অর্থাৎ দর্শক এখানে গরিব ক্ষমতাহীন, শিল্প সেখানে মধ্যবিত্তের চোখে ‘সস্তা’। সত্যজিৎ দর্শকপ্রিয়তার বিরুদ্ধে ছিলেন না। তবে সিনেমাকে দর্শকের প্রিয় করার জন্য তাকে ‘সস্তা’ বা ‘খেলো’ করতেই হবে, সেটা বিশ্বাস করতেন না। তিনি মনে করতেন, দর্শকের মধ্যে একটা বুদ্ধি বা বোধের জায়গা থাকে, তাঁদের এতটা বোকা ভাবার কিছু নেই। আবার এটাও সত্য, সব ছবি সব দর্শকের জন্য নয়। আমার কাছে মনে হয়, আমরা যা দেখাই তা তাঁরা আমাদের চেয়েও ভালো জানেন।
এখানে একমাত্র পার্থক্য হলো, আমার কাছে একটা ক্যামেরা আছে, আর তাঁদের কাছে সেটা নেই।
সূত্র: প্রথম আলো