মানবজাতি পৃথিবীর বুকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর কোটি বছর আগে থেকেই মহাসমুদ্রের অন্ধকার তলদেশে এক গভীর ও সুসংগঠিত বাক্যালাপ চলে আসছে। সাগরের গভীর স্তব্ধতা ভেদ করে গড়ে উঠেছে সুর, ধ্বনি আর সংকেতের এক বিস্ময়কর গাণিতিক ও ব্যাকরণগত জগৎ।
কিন্তু মানুষ দীর্ঘকাল ধরে তিমির এই ধ্বনিপ্রবাহকে কেবল পশুর সাধারণ গর্জন, অন্ধ আবেগ কিংবা অর্থহীন যান্ত্রিক শব্দ ভেবে ভুল করে এসেছে।সবচেয়ে করুণ ও ভীতিপ্রদ সত্য হলো, শত শত বছর ধরে মানুষ যখন কাঠের ও লোহার জাহাজ ভাসিয়ে অন্ধের মতো হাজার হাজার তিমি নিধন করছিল, তখনও তিমিসমাজ সাগরের গহ্বরে একে অপরকে ভালোবেসে, নিজেদের দুঃখ প্রকাশ করে অস্তিত্বের বার্তাই পাঠিয়ে যাচ্ছিল।
মানুষ যখন বিশালাকার তিমিকে কেবল বাতি জ্বালানোর তেল আর চর্বির উৎস হিসেবে দেখত, তখনও এরা একই গভীর ভাষায় নিজেদের ভালোবাসত এবং অস্তিত্বের জানান দিত।
সূত্র: প্রথম আলো