তখন ইংরেজ আমল। ঢাকা এক ছোটো মফস্বল শহর। কাজকর্ম, চাকরি-বাকরি সবকিছুই কলকাতায়। বিয়ের বাজার, রোগীর চিকিৎসা, ছেলের মুসলমানির দাওয়াতিদের খাওয়ানোর বাজার-সদাইয়ের জন্য এমনকি ধনী লোকের মেয়ের নাক-ফোড়ানির উৎসব বা পুতুলের বিয়ের ‘লওয়াজিমা’র ফর্দ নিয়েও ছুটতে হতো কলকাতায়। তো, এক কৃপণ গেরস্ত মেয়ের বিয়ের বাজার করতে কলকাতায় যাচ্ছে।
তখন কলকাতায় যেতে হতো নারায়ণগঞ্জ বা কার্তিকপুর থেকে গোয়ালন্দ হয়ে স্টিমারে।স্টিমারে গোয়ালন্দে পৌঁছে সেখান থেকে ট্রেনে কলকাতা। গোয়ালন্দ স্টিমারঘাট ছিল তখন বেশ জমজমাট। দোকানপাট, ফেরিওয়ালা-হোটেল, নৌকায় ভাসমান হোটেল, কুলি-মিস্তির ছোটাছুটি হৈচৈ–এর এক এলাহিকাণ্ড। কৃপণ গেরস্ত ভাবছিল, রাস্তাঘাটে খেয়ে আর পয়সা নষ্ট করবে না। কলকাতায় পৌঁছেই একবারে যা হোক কিছু খেয়ে নেবে।
কিন্তু সে খেয়াল করেনি যে নদীপথে যাত্রাকালে বাতাস ও নদীর আবহাওয়ায় দ্রুত ক্ষিধা লাগে এবং ক্ষিধাটা চবড় করে বাড়তে থাকে।
সূত্র: প্রথম আলো