রাতারাতি যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে নেত্রকোনার মহম্মদ রফিকুলের মাথায়। ঠিক এক মাস আগে বড় ভাই সফিকুলের ক্যানসার ধরা পড়লে কেমোথেরাপির পরামর্শ দিয়েছিলেন স্থানীয় চিকিৎসকেরা। ঠিক হয়, কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হবে। বহু কষ্টে জোগাড় হয় মেডিক্যাল ভিসা, কোনোরকমে টাকার ব্যবস্থা করে রোগীকে নিয়ে আগস্টের শেষে কলকাতায় পৌঁছান রফিকুল, সঙ্গে স্ত্রী সালমা বেগম। তাঁরা ওঠেন মধ্য কলকাতার একটি গেস্টহাউসে।
বিশেষ অপেক্ষা করতে হয়নি, এক রাত হাসপাতালে থেকে কেমো নিয়ে ছাড়া পান সফিকুল। আরও কয়েকটি পরীক্ষার জন্য দিন তিনেক ওই গেস্টহাউসেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু অগ্রিম টাকা নেওয়ার পরও প্রথম রাতেই তাঁদের গেস্টহাউস ছাড়তে বাধ্য করা হয়। আপত্তি জানিয়েও লাভ হয়নি, রাত ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ মালপত্রসহ সবাইকে বাকি টাকা ফেরত দিয়ে বের করে দেন গেস্টহাউসের মালিক।
বাধ্য হয়ে রাতে ফুটপাতে প্লাস্টিকের চাদর বিছিয়ে রোগীকে ও নিজেদের শোয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।রাত পেরোলেও আশপাশের অন্যান্য গেস্টহাউস বা হোটেল বুক করার আপ্রাণ চেষ্টা করেও বিশেষ লাভ হয়নি।
সূত্র: প্রথম আলো