চলনবিলের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা চাটমোহর শত বছরের বাণিজ্য ও নদীমাতৃক সভ্যতার এক জীবন্ত সাক্ষী।‘আমি ছেলেবেলায় কৃষ্ণনগরেই বাস করতুম সাড়ে এগারো মাস আর হরিপুরে পনেরো দিন। কিন্তু হরিপুর আমরা সঙ্গেই এনেছিলুম, তার মানসিক আবহাওয়াও।’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল ও চলিত গদ্যরীতির রূপকার প্রমথ চৌধুরী তাঁর আত্মকথায় পৈতৃক নিবাস হরিপুর নিয়ে এভাবেই স্মৃতিচারণা করেছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর পাবনার চাটমোহর উপজেলায় প্রবেশের সময় তাঁর সেই মুগ্ধতার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি যেন ধরা পড়ল চোখে। বাজারের অদূরেই প্রমথ চৌধুরীর সেই আদি নিবাস, যা একসময় ছিল এই অঞ্চলের অন্যতম সচ্ছল জমিদারি এলাকা।
যে রূপে বিমোহিত হয়ে তিনি হরিপুরকে তাঁর লেখনীতে ধারণ করেছিলেন, সময়ের পালাবদলে তার জৌলুশ হয়তো কিছুটা ফিকে হয়েছে, তবে ঐতিহাসিক আভিজাত্যের সেই রেশ আজও অমলিন।পাবনা জেলার মানচিত্রের দিকে তাকালে উত্তর-পশ্চিম কোণে যে জনপদটি সবচেয়ে বেশি ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার নাম চাটমোহর।
সূত্র: প্রথম আলো