সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর চাকরিপ্রার্থীদের ‘মেহমান’ পরিচয়ে গোপন আস্তানায় জড়ো করে রাতভর উত্তর মুখস্থ করাত একটি চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে সাভারের বিলাসবহুল পালমিরা রিসোর্ট, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের দুটি এনজিওর ডরমিটরি, ফিল্টারের গুদাম ও বিভিন্ন বাসা ব্যবহার করা হতো। এসব গোপন ডেরায় প্রবেশের সময় প্রার্থীদের জন্য ছিল কঠোর বিধিনিষেধ; ঘড়ি, মানিব্যাগ, জুতা বা কেডস এবং স্মার্টফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে সাভারের রিসোর্টে ৪৪ জন এবং একটি ফিল্টারের গুদামে ৪২ জন প্রার্থীকে রেখে প্রশ্ন মুখস্থ করানো হয়। একইভাবে ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগেও মোহাম্মদপুরের ‘ইউএসটি’ ও ‘পদক্ষেপ’ নামের এনজিওর ডরমিটরিতে পরীক্ষার্থীদের রাখা হয়েছিল। এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী, তাঁর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম এবং আবু সোলেমান মো. সোহেলসহ বেশ কয়েকজন জড়িত ছিলেন। সিআইডি সোহেলের আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই ঘটনায় সিআইডির অভিযোগপত্রে সৈয়দ আবেদ আলী, সোহানুর রহমান সিয়াম ও আবু সোলেমান সোহেলসহ মোট ৫৫ জনের নাম এসেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চালাচ্ছে সিআইডি।
সূত্র: প্রথম আলো