রোজ ভোরে ফুল কুড়াতাম আমরা দুজন। দুজন মানে দীপক আর আমি। মালা গেঁথে দীপকের হাতে দিয়ে তারপর এসে পড়তে বসতাম। সেই স্মৃতিগুলো আজ আমার স্বপ্নের দরজায় এসে আঘাত হেনে যায়। দীপক ছিল আমার পাশের বাড়ির। দিনে দিনে আমরা বড় হতে থাকলাম। আমাদের স্বপ্ন সবই দিগন্তের মতো পাখা মেলতে শুরু করল। সেই স্বপ্নঘেরা ও মধুময় দিনগুলো হারিয়ে গেল। পাড়ভাঙা নদীর মতো, আমার জীবন-নদীতেও কষ্টের কলধ্বনি। আমি ভুলব কী করে সেসব কথা!
স্কুল-কলেজ ডিঙিয়ে আমি ও দীপক এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। মনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা, হলের বান্ধবীদের হাস্যোজ্জ্বল দীপ্তিভরা মুখ। মনে পড়ে আর একখানি স্বপ্নপূর্ণ কমলের মতো ফুটন্ত মুখ। সে মুখ যে জীবন্ত হয়ে ফুটে আছে আমার বুকের আধারে। পড়ন্ত বিকেলে হলের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে থাকতাম আমি—কখন দীপক আসবে। দীপক এসে বলে, ‘একটু দেরি হয়ে গেল সাথী, রাগ করোনি তো?’ হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর চলে যাই আমরা।
পথে নাম না-জানা অনেক মুখচেনা বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়।
সূত্র: প্রথম আলো