চশমাপরা হনুমানমাধবকুণ্ড বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা জলধারা, ঝরনার শব্দ, পানির কুয়াশার মতো চাদর আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানোর মুহূর্ত। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার এই জলপ্রপাত বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র।কিন্তু একজন বন্য প্রাণিবিদ যখন মাধবকুণ্ডে যান, তাঁর চোখে শুধু জলপ্রপাত ধরা পড়ে না।
চারপাশের পাহাড়ি বন, পাথর, ঝোপঝাড়, গাছ থেকে পড়ে জমে ওঠা পাতার স্তর এবং অন্ধকারে সক্রিয় অসংখ্য ছোট প্রাণীও তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মাধবকুণ্ড তাই শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের পাহাড়ি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গবেষণাগার।গত ডিসেম্বরের কথা। দুই দিনের জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। জলপ্রপাতের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ শুনি ব্যাঙের ডাক। সে কী কাণ্ড!
ডিসেম্বরের শীতে কোন ব্যাঙের এমন সাহস হলো যে ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করে প্রজননের জন্য পানিতে নেমেছে?তড়িঘড়ি করে পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে দেখি, দুই–তিন ডজন পুরুষ ব্যাঙ পানির ধারে ডাকাডাকি ও নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করছে।
সূত্র: প্রথম আলো