স্কুলের পেছনে একটি আমগাছ, পাশে নারকেল গাছ—চারপাশে ঝোপঝাড়। লুকানোর জন্য যেন আদর্শ জায়গা। সেদিন স্কুল ছুটি হয়ে গেছে, বন্ধুরা সবাই চলে গেছে। আমি আমগাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে শাবানার হাত ধরে বসে আছি। আমি তাকে ভালোবাসতাম, সে ভালোবাসত কিনা জানি না; তবে হাত ধরায় আপত্তি করেনি। হঠাৎ কাশির শব্দ। ফিরে দেখি, আমাদের হেড স্যার দাঁড়িয়ে আছেন। গম্ভীর মুখে বললেন, ‘তোরা এখানে কী করিস?’ বুক ধড়ফড় করতে লাগল। শাবানা দ্রুত সরে গেল।
স্যারও চলে গেলেন, যেন কিছুই দেখেননি। প্রশ্নের জবাবও শুনলেন না। সারা রাত চোখে ঘুম এল না।পরের দিন স্যার যথারীতি ক্লাস নিলেন। তাঁর ক্লাসে টুঁ শব্দ হতো না—ভয়ে নয়, আনন্দে। তাঁর কথা আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। কী এমন বলতেন, আজও বুঝি না; তবে এমনভাবে পড়াতেন যে ক্লাসেই পড়া হয়ে যেত। ক্লাস শেষে তিনি আমার হাত ধরলেন, বললেন, ‘চল, আমার রুমে।’ ভয়ে তখন আমার অবস্থা খারাপ। স্যার শান্ত গলায় বললেন, শাবানার সঙ্গে তোর এত ঘনিষ্ঠতা কেন?
শোন বাবা, ভালোবাসা অন্যায় নয়; কিন্তু তোদের এই বয়স ভালোবাসার নয়।’ সেদিনই শাবানাকে বললাম, এখন আর নয়, তুমি তোমার পথ দেখো।
সূত্র: প্রথম আলো