শিল্প-সাহিত্যে জনপ্রিয়তার হিসাব আলাদা; নানান কারণে লেখক-শিল্পীরা জনপ্রিয় হন, এর সঙ্গে মান ও মেধার যোগ থাকা অপরিহার্য না। এই কারণে একেক বিচারে একেক জন জনপ্রিয় হন। তাই জনপ্রিয়তার বিচারে না গিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশে, আমার ধারণা, গ্রহণযোগ্যতার বিচারে অন্য লেখকদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন কাজী নজরুল ইসলাম। এই গ্রহণযোগ্যতার পেছনে যতটা না নজরুলের সামগ্রিক রচনার ‘কৃতিত্ব’ আছে, তার চেয়ে বড় ‘কৃতিত্ব’ হলো সাম্প্রদায়িক রাজনীতির।
সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চরিত্রই এমন যে সবকিছুর মধ্যে একধরনের বিভাজন তৈরি করা—কাউকে নিজের সুবিধামতো খণ্ডিত রূপে প্রতিষ্ঠা করা এবং কাউকে বিকৃত রূপে উপস্থাপনের মাধ্যমে খারিজ করে দেওয়ার ন্যারেটিভ তৈরি করা। এর বড় শিকার কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলাদেশে নজরুলের গ্রহণযোগ্যতার পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে সাহিত্যের অপাঠকদের।
অর্থাৎ বাংলাদেশে যাঁরা সাধারণত গল্প-উপন্যাস-কবিতা পড়েন না, তাঁদের অনেকে হয়তো সংগীতকে ‘অ–ইসলামিক চর্চা’ মনে করে উপেক্ষাও করেন, তাঁদের কাছেও লেখক হিসেবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নাম হলো কাজী নজরুল ইসলাম।
সূত্র: প্রথম আলো