সেলফোনে এখনো সেই নম্বরটি সংরক্ষিত ০১৫৫.…৯৮৯। নামের পাশে কাঠের পুঁতির মালা গলায় সৌমকান্তি সেই মুখ। মনে হয় এই ফোন বেজে উঠবে, দূর থেকে ভেসে আসবে মধুর এক কণ্ঠ—‘কেমন আছ প্রিয়’। সেই ফোন আর আসে না। হাওরের জলে ভেজা সেই কণ্ঠস্বর কত দিন শুনি না ভেসে আসা ইথারে বা মুখোমুখি বসে।
কেউ জানায় না সেই ‘বাসনা’—‘আগামী, তোমার হাতে/ আমার কবিতা যেন/ থাকে দুধে-ভাতে।’ কবি হেলাল হাফিজ—তাঁকে চিনতে হলে শুধু তাঁর কবিতার কাছে গেলেই হয় না; যেতে হয় তাঁর নীরবতা, দীর্ঘ বিরতি, নিঃসঙ্গতা, তুমুল যৌবন, আড্ডা, অভিমান, প্রেম, আত্মপীড়ন এবং জীবনের প্রতি অদ্ভুত নির্মোহ দৃষ্টির কাছেও। কারণ, জীবন মন্থন করে যে বিষে তিনি হয়েছিলেন নীলকণ্ঠ; সেই জীবনের পরিশ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও নান্দনিক প্রকাশই তাঁর কবিতা।
যাকে বলতে পারি জীবনের দহন থেকে উঠে আসা প্রদীপ্ত শব্দমালা।
সূত্র: প্রথম আলো