যেকোনো জলাধার কেবল জীববৈচিত্র্যের আধারই হয় না, পুরো এক জনপদের জীবন, জীবিকা ও সামাজিক ঐতিহ্যেরও অংশ হয়ে উঠতে পারে। বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের উত্তর পাশে করতোয়া নদীর এক বাঁকে থাকা গোঁসাইয়ের দহ কেবল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থলই ছিল না, এটি ছিল এ এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার পালনেরও স্থান। পলি জমা, দখল, কৃত্রিম বাঁধ ও কচুরিপানার জঙ্গলে মরণাপন্ন এই জলাশয়ের সংবাদটি তাই উদ্বেগজনক।
এটি তো কেবল জলাধার শুকিয়ে যাওয়ার খবর নয়, পুরো এক সামাজিক ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার দলিল।আজ সেই দহে নেই মাছের ঝাঁক, নেই জেলেদের ব্যস্ততা। দহের এই সাম্প্রতিক দশা আরেকটি মৌলিক প্রশ্নও আমাদের সামনে হাজির করেছে: আমরা কি আমাদের ঐতিহ্যবাহী নদী, বিল ও স্থানীয় মৎস্য প্রজাতিকে রক্ষা করতে পারছি? দেশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজননস্থল যদি এভাবে হারিয়ে যেতে থাকে, তাহলে এই ক্ষতিই-বা আমরা কীভাবে পূরণ করব?
আর ক্ষতি তো কেবল মাছের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না, কেননা এ ধরনের জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পুরো এক এলাকার জীবন ও জীবিকা গড়ে ওঠে।স্থানীয় লোকজনের মুখে দহের বিবর্তনের ইতিকথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সূত্র: প্রথম আলো