তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে খুব অসুস্থ হয়ে যাই। বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়তে থাকে। রোগটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় পুরোপুরি বেড রেস্টের পাশাপাশি আমার কাছে তখন অন্যদের আনাগোনাও কমে যায়। তার ওপর পাড়ার এক পাগলাটে ডাক্তার পরামর্শ দিয়ে যান, আমাকে যেন সব মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখা হয়। ফলে বন্ধুদের সঙ্গে আমার আর দেখা হতো না। যেহেতু স্কুলে যেতাম না, আম্মু আমার একমাত্র ছোটবোনটিকেও কাছে আসতে দিত না।
রোগটি ছোঁয়াচে কি না, পাছে সেও আক্রান্ত হয় কি না এই ভয়ে। ভয়ংকর একাকিত্ব আর স্বজনদের ভয়ার্ত দৃষ্টি দেখতে দেখতে কাটত একেকটি দিন।একদিন আম্মু বললেন, ‘তোমার একাকিত্ব নিরসনে কিছু ব্যবস্থা করব।’ আমাদের টেলিভিশন ঠিক করা হলো। বিশ্বকাপ ফুটবল চলছিল তখন। আর্জেন্টিনা প্রথম রাউন্ডেই বাদ হয়ে যাওয়ায় খেলার প্রতি মোহও কমে গেল। অঙ্ক বই নিয়ে সমানুপাতের কিছু অঙ্ক করি, আর সম্পাদ্য।
অন্য বইগুলো পড়তেও ইচ্ছা করে না, বিছানাবন্দী জীবন অসহ্য লাগে।সেকালে, প্রায় বিশ বছর আগে খুব সচেতন লোক ছাড়া বাসাবাড়িতে তেমন কেউ পত্রিকা রাখতেন না।
সূত্র: প্রথম আলো