প্রাচ্যের এক সুপরিচিত নীতিগল্পে এক অনন্য শিক্ষকের কথা আমরা অনেকেই জানি। গ্রামীণ এক পাঠশালায় যখন স্বয়ং রাজার আগমনবার্তা পৌঁছাল। সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে তোড়জোড় শুরু করলেও পাঠশালার পণ্ডিতমশাই রাজদূতকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মহারাজের এখানে পদার্পণ না করাই শ্রেয়। ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত রাজা কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে সাধারণ ছদ্মবেশে সেই পাঠশালায় হাজির হলেন।
রাজকীয় আড়ম্বরহীন কুটিরে শিশুদের চোখে জ্ঞানের যে দীপ্তি রাজা দেখলেন, তাতে তিনি মুগ্ধ হলেন। একান্তে তিনি শিক্ষককে প্রশ্ন করলেন, ‘শুনেছি আপনি মহারাজকেও পাত্তা দেন না, তাঁকে আসতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু কেন?’ শিক্ষক শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘এই পাঠশালার সীমানায় এই শিশুদের কাছে আমিই রাজা, আমিই প্রজা। ওরা আমার দিকে তাকিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখে, আত্মমর্যাদার পাঠ নেয়।
মহারাজ এলে রাজভয়ে বা শিষ্টাচারে যদি আমি তাঁর সামনে মস্তক অবনত করি, তবে আমার আজীবনের দেওয়া পাঠ এক লহমায় অর্থহীন হয়ে যাবে।
সূত্র: প্রথম আলো