ইসলামি জ্ঞান-ঐতিহ্যের ইতিহাসে ইবনে খালদুন এমন একজন চিন্তাবিদ, যাঁর রচনা ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও সভ্যতা সম্পর্কে চিন্তার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
তাঁর অমর গ্রন্থ আল-মুকাদ্দিমা শুধু একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থের ভূমিকা নয়; বরং এটি মানবসমাজ ও সভ্যতার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণের একটি সুসংবদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস।চতুর্দশ শতকের এই মুসলিম মনীষী ইতিহাসকে নিছক রাজা-বাদশাহ ও যুদ্ধের ঘটনাপঞ্জি হিসেবে দেখেননি; বরং ইতিহাসের অন্তর্নিহিত কারণ, সামাজিক শক্তি, অর্থনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে বিশ্লেষণের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন।ইবনে খালদুনের এই পদ্ধতি তাঁকে ইতিহাসচর্চার প্রচলিত ধারা থেকে স্বতন্ত্র করেছে।
বিশেষত, তাঁর ‘আসাবিয়্যাহ’ বা সামাজিক সংহতির ধারণা, যাযাবর ও নগরজীবনের পারস্পরিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রের উত্থান-পতনের বিশ্লেষণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ মুকাদ্দিমাকে বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থে পরিণত করেছে।ইবনে খালদুনের বিশ্লেষণের বিশেষত্ব হলো, তিনি রাজনৈতিক পতনকে শুধু কোনো একক শাসকের ব্যক্তিগত দুর্বলতার ফল হিসেবে দেখেননি; বরং এর পেছনে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণের পারস্পরিক সম্পর্ক অনুসন্ধান করেছেন।ইবনে খালদুন ও মুকাদ্দিমার পটভূমি আবদুর রহমান ইবনে খালদুন ১৩৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিউনিসে জন্মগ্রহণ করেন।
সূত্র: প্রথম আলো