দুপুরবেলা বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে আয়ান খেয়াল করলেন, বছরের পর বছর মাছ কিনতে কিনতে তিনি এখন একনজরেই বুঝে যান কোনটা টাটকা আর কোনটা বাসি। কেউ তাঁকে নিয়ম মুখস্থ করায়নি, বারবার দেখে দেখেই তিনি শিখেছেন।মেশিন লার্নিং (এমএল) বা যন্ত্র-শিখন অনেকটা এভাবেই কাজ করে। মানুষের যেমন অনেক মাছ দেখলে চেনা রপ্ত হয়ে যায়, ঠিক তেমনি কম্পিউটারকেও হাজার হাজার ছবি বা তথ্যের উদাহরণ দেখিয়ে শেখানো হয়।
ধরুন, লাখো বিড়াল আর কুকুরের ছবি দেখিয়ে দিলে, যন্ত্র নিজে থেকেই ধীরে ধীরে দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শেখে, কোনো মানুষ প্রতিটির জন্য নিয়ম আলাদা করে না বলে দিলেও যন্ত্র ‘বুঝতে’ পারে, আলাদা করতে পারে।এভাবেই ব্যাংক জালিয়াতি ধরা, রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করা, এমনকি ফসলের রোগ চেনার মতো কাজেও এখন মেশিন লার্নিং ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর ভিত্তি একটাই—বারবার দেখে শেখা।তবে সমস্যা হলো, ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য দিয়ে শেখালে যন্ত্রও সে ভুলটাই শিখে ফেলবে, আর সেটা টেরও পাওয়া যাবে না সহজে।
এটাই এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় লুকানো ঝুঁকি, যা নিয়ে বিশ্বের সেরা গবেষকেরা এখনো কাজ করে যাচ্ছেন।লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর
সূত্র: প্রথম আলো