এসএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষায় এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর নষ্ট না করে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরির দাবি উঠেছে। সম্প্রতি রাজধানীতে গণসাক্ষরতা অভিযানের এক সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এই দাবি তোলে। সর্বশেষ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে। বিদ্যমান নিয়মে পরের বছরের আগে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, অকৃতকার্যদের বিষয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে কী করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনার জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো সভা ডেকেছে। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনজুর আহমদ এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকারও মনে করেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা হলে বোর্ডের পক্ষে এমন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব এবং এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং সামগ্রিক গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরবর্তীতে ফল পুনর্নিরীক্ষণে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পায় এবং ফেল করা পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪ হাজার ৫৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ বাঁচাতে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: প্রথম আলো