পরিসংখ্যান অনুযায়ী যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিমান পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ বাহন। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট দূরত্ব ভ্রমণের হিসাবে বাণিজ্যিক বিমান সাধারণ গাড়ির তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ গুণ নিরাপদ। কঠোর নিয়মকানুন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কারণে এই বাহনে ঝুঁকি অনেক কম। তবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত ছোট বিমান বাণিজ্যিক বিমানের মতো এতটা নিরাপদ নয়; গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট ব্যক্তিগত বিমানে মৃত্যুর ঝুঁকি গাড়ির চেয়েও প্রায় ১০ গুণ বেশি।
বিমান ছাড়াও বাস এবং ট্রেনকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বাহন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিপরীতে মোটরসাইকেলকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বাহন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে গাড়ির তুলনায় মৃত্যুর হার প্রায় ২৪ গুণ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ১০০ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান। এ ছাড়া বিআরটিএ-এর হিসাবে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা দেখে কোনো বাহনের নিরাপত্তা বিচার করা যায় না; বরং ভ্রমণ করা দূরত্ব ও সময়ের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্দেশনা অনুসরণ, গাড়িতে সিটবেল্ট বাঁধা এবং মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহারের মতো নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্র: প্রথম আলো