পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হওয়া কিংবা জীবনের যেকোনো ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষায়। মনোবিজ্ঞানের ‘সংকট-উত্তর বিকাশ’ বা পোস্ট-ট্রমাটিক গ্রোথ তত্ত্ব অনুযায়ী, ব্যর্থতা বা জীবনের কঠিন সময় মানুষকে আরও দৃঢ়চেতা করে গড়ে তোলে। একইভাবে পবিত্র কোরআনেও কষ্টের সঙ্গে স্বস্তির কথা বলে হতাশ হয়ে বসে না থেকে নতুন উদ্যমে পরিশ্রম করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সব বিপদ বা ব্যর্থতা শাস্তি নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা। কোরআনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। হযরত ইউসুফ (আ.)-এর কূপে নিক্ষিপ্ত হওয়া থেকে মিসরের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পৌঁছানো কিংবা সাহাবি কা’ব বিন মালিকের (রা.) দীর্ঘ পঞ্চাশ দিনের কঠিন বয়কটের পর ক্ষমার ঘটনা শেখায় যে অন্ধকার সময়ের পরেই জীবনের বড় স্বস্তি আসতে পারে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে মক্কার তেরো বছরের নির্যাতন, তায়েফে পাথরের আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হওয়া কিংবা হিজরতের সময় গুহায় শত্রুর ভয়—কোনো অবস্থাতেই তিনি আশা হারাননি। এমনকি ওহুদের যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষতির পরের দিনই সাহাবিদের নিয়ে মনোবল দেখাতে আবার বের হয়েছিলেন। এই দৃষ্টান্তগুলো শিক্ষা দেয় যে চরম সংকটেও আশাবাদী থেকে অবিচল চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই সাফল্যের পথ।
সূত্র: প্রথম আলো