সিলেটে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৪৩, যা জাতীয় গড় ৩৩-এর চেয়ে বেশি। এছাড়া ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে খাদ্যদারিদ্র্যের হার ৭২ দশমিক ১ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ শিশু অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করে। প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষায় সিলেটে অংশগ্রহণের হার মাত্র ১৩ শতাংশ, যা দেশের সব বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সিলেটের শিশুদের জন্য আরেকটি বড় হুমকি সিসা দূষণ। ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশের রক্তে ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে, যা ঢাকার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পাশাপাশি প্রবাসী অভিভাবকের অনুপস্থিতি, হাওর অঞ্চলের ছয় মাসের প্লাবন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং চা-বাগান এলাকার দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিকাশ যাচাই সরঞ্জাম সরবরাহ, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং পুষ্টি পরামর্শ জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাওর ও দুর্গম এলাকায় নৌযানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, চা-বাগানে বিশেষ সহায়তা এবং প্রবাসী পরিবারের বিকল্প পরিচর্যাকারীদের মানসিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ মেয়াদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে জন্ম থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষা পর্যবেক্ষণে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো