প্রতিশোধের তীব্র আগুন, নাকি ভেতরের অবিরাম সংশয়—কোনটি মানুষকে বেশি তিলে তিলে ধ্বংস করে? সাহিত্যের আঙিনায় নাটকের কোনো অভাব নেই, কিন্তু মানুষের মনের অতল অন্ধকার, জটিল মনস্তত্ত্ব এবং সিদ্ধান্তহীনতার এমন নিখুঁত রূপায়ণ উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের অমর ট্র্যাজেডি ‘হ্যামলেট’-এর মতো আর কোথাও খুঁজে পাওয়া দায়।গল্পের পটভূমি ডেনমার্কের রাজপরিবারকে কেন্দ্র করে।
যুবরাজ হ্যামলেট পিতৃশোকে কাতর, কিন্তু তার বিষাদ আরও গভীর হয়ে ওঠে যখন রাজা; অর্থাৎ তার পিতার আকস্মিক মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কাকা ক্লাউডিয়াসের সিংহাসন দখল এবং হ্যামলেটের মা গারট্রুডকে বিয়ে করেন।গল্পের বিষাক্ত ও চমকপ্রদ মোড় নেয় ঠিক তখন, যখন রাজপ্রাসাদের পাহাড়ে আবির্ভূত হওয়া বাবার আত্মা হ্যামলেটকে জানায় এক বীভৎস সত্য—কোনো স্বাভাবিক অসুস্থতা নয়, বরং কাকা ক্লাউডিয়াস কানে বিষ ঢেলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
হৃদয় থেকে বাবা হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার রক্তের আহ্বান ভেসে আসে; আর সেখান থেকেই শুরু হয় সাহিত্য–ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব।সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।মায়ের প্রতি তার তীব্র অভিমান, প্রেমিকা ওফেলিয়ার প্রতি জটিল মানসিক আচরণ এবং কায়দা করে করা পাগলামির অভিনয়—সব মিলিয়ে চরিত্রটির প্রতি একই সঙ্গে ক্ষোভ ও গভীর সমবেদনা তৈরি হয়।
সূত্র: প্রথম আলো