ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খের ধ্বনি, ধূপের ধোঁয়া আর প্রদীপের আলোয় মুখর ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মণ্ডপ থেকে মণ্ডপ। শিল্পীর নিপুণ হাতের স্পর্শে মৃণ্ময়ী প্রতিমা ফুটে ওঠে দেবী দুর্গার অপরূপ রূপ। স্নিগ্ধ প্রশান্তি, চোখে অপার মমতাময়ী দীপ্তি, ১০ হাতে অস্ত্র, পদতলে পরাজিত মহিষাসুর; পাশে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। কোথাও দেবীর মুখে মাতৃস্নেহের কোমলতা, কোথাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল প্রতিজ্ঞা।
ভক্তেরা অঞ্জলি দেন, পুরোহিত মন্ত্রোচ্চারণ করেন, ধুনুচির ধোঁয়া বাতাসে পাক খেয়ে ওঠে, আর ঢাকের তালে তালে মানুষের হৃদয় আনন্দে ও আবেগে আন্দোলিত হয়। পূজামণ্ডপের এই দৃশ্য কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবের সৌন্দর্য নয়, এর গভীরে রয়েছে মানুষের চিরন্তন আশ্রয়, শুভশক্তির প্রতি বিশ্বাস এবং মাতৃস্নেহের এক অনির্বচনীয় আকুলতা। তাই দেবী দুর্গাকে আমরা শুধু দুর্গা বলে ডাকি না, ডাকি ‘মা’, বলি ‘জগজ্জননী’।
এই মাতৃ সম্বোধনের মধ্যে নিহিত রয়েছে এক দার্শনিক উপলব্ধি।
সূত্র: প্রথম আলো