হিজরি ১৮ সনের দিকে মুসলিম সাম্রাজ্য পরপর দুটি ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছিল—একদিকে হিজাজ অঞ্চলে নেমে এসেছিল স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ‘আম আর-রামাদাহ’, অন্যদিকে শাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধি ‘আমওয়াস মহামারী’।খলিফা ওমর (রা.) যেভাবে এগুলো মোকাবিলা করেছিলেন, তা একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক প্রজ্ঞা এবং জনকল্যাণমূলক শাসনের উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে রয়েছে।১. রাষ্ট্রীয় সম্পদের দ্রুত ব্যবহার হিজরি ১৭ সনের শেষভাগ থেকে ১৮ সনের শুরু পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় নয় মাস হিজাজ এলাকায় অনাবৃষ্টি ও অনাবাদি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শস্যখেত শুকিয়ে যায়, গবাদিপশু মারা পড়ে এবং সমগ্র মদিনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষুধা ও অনাহার ছড়িয়ে পড়ে।এই দুর্যোগকে ‘আম আর-রামাদাহ’ (ভস্মের বছর) বলা হয়। কারণ, দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে মাটি ধূলিসাৎ হয়ে কালো ও শুকিয়ে ছাই-ভস্মের রূপ নিয়েছিল।
(ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/৩১৬, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে সাম্রাজ্যের এক অংশে দুর্ভিক্ষ হলেও যেসব অঞ্চলে আল্লাহর রহমতে উদ্বৃত্ত খাদ্য রয়েছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ছাড়া এই দুর্যোগ থেকে নিস্তার নেই।সংকট দেখা দেওয়ার পরপরই খলিফা ওমর (রা.) মদিনার কেন্দ্রীয় বাইতুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেন।
সূত্র: প্রথম আলো