নিশুতি রাতের সুনসান নীরবতা যখন বাংলার গ্রাম কিংবা বনাঞ্চলকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখনই এক মায়াবী জগতের পর্দা উন্মোচিত হয়। প্রকৃতির এই অন্ধকারে ডানা মেলে ওড়ে জীবজগতের অন্যতম রহস্যময় শিকারি প্যাঁচা। লোকগাথা আর কুসংস্কারের কুয়াশা সরিয়ে যদি এদের চেনা যায়, তবে দেখা মিলবে প্রকৃতির নিখুঁত বাস্তুতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরীদের।
শিকার ধরার অদম্য কৌশল, নিঃশব্দ ওড়ার ক্ষমতা এবং প্রজাতিভেদে চমৎকার বৈচিত্র্যময় ডাক প্যাঁচাদের করেছে অনন্য।আন্তর্জাতিক পাখিবিষয়ক তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১৭ থেকে ২০ প্রজাতির প্যাঁচার অস্তিত্ব রয়েছে।
ক্ষুদ্র খুঁড়ুলে প্যাঁচা থেকে শুরু করে বনের বিশাল শিকারি হুতুম কিংবা মেছো প্যাঁচা—প্রতিটি প্রজাতিরই রয়েছে নিজস্ব রূপ, স্বভাব ও জীবনধারা।প্যাঁচা কীভাবে নিঃশব্দে ওড়েসাধারণত পুরোনো জমিদারবাড়ি, প্রাচীন মন্দিরের চূড়া, পরিত্যক্ত অট্টালিকার ঘুলঘুলি, ধানের গোলা কিংবা শতবর্ষী বট-পাকুড়ের অন্ধকার কোটরে লক্ষ্মীপেঁচারা সংসার পাতে।লক্ষ্মীপেঁচা ও সাউন্ড রাডারপ্রাচীনকাল থেকেই মানুষের বসতভিটা আর গ্রামীণ লোকবিশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যে নিশাচর পাখিটি, তা হলো লক্ষ্মীপেঁচা (Tyto javanica)।
সূত্র: প্রথম আলো