কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় ‘টুপ টুপ’ নামের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য রয়েছেন। রেস্তোরাঁর ওপরে কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি ওই রিসোর্টের কক্ষগুলো থেকে নিচে নামার বিকল্প পথ না থাকায় অতিথিরা বাথরুমে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাননি। সেখান থেকেই তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, গত জুনেই রিসোর্টটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো ফায়ার লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জরুরি পরিকল্পনা ছাড়াই তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরও গত এপ্রিলে ছাড়পত্রহীন রিসোর্টটিকে বন্ধের নোটিশ দিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। তবে ভবন নকশার অনুমোদন ও উচ্ছেদের এখতিয়ার কেবল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের থাকলেও সেখানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই বহু হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। জিডিপিতে ৩.০২ শতাংশ অবদান রাখা এই বড় শিল্পটিতে সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে প্রতীয়মান হয়।
সূত্র: প্রথম আলো