১৯৪২ সালে লিবিয়ার সিরতে অঞ্চলে এক বেদুইন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। মিসরের তৎকালীন নেতা জামাল আবদেল নাসেরের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৭ বছর বয়সে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে লিবিয়ার রাজতন্ত্র উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন। এরপর টানা ৪২ বছর তিনি তেলসমৃদ্ধ দেশটি শাসন করেন। নিজের রচিত ‘সবুজ বই’-এর দর্শনে দেশ পরিচালনা, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা, বেদুইন তাঁবুতে বসবাস এবং নারী দেহরক্ষী ‘অ্যামাজোনিয়ান গার্ড’-এর মতো নানা কারণে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত ছিলেন।
গাদ্দাফির দীর্ঘ শাসনামলে লিবিয়ায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এলেও বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগ ছিল। ১৯৮০-এর দশকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাঁর বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ১৯৮৮ সালের বিমান হামলার জেরে লিবিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে। তবে ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগের ঘোষণার মাধ্যমে পশ্চিমাদের সঙ্গে গাদ্দাফির সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল।
২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে লিবিয়ায় গাদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। জাতিসংঘ ও ন্যাটোর সামরিক সহায়তায় গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে। অবশেষে ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর সিরতে শহরে ন্যাটোর বিমান হামলায় তাঁর গাড়িবহর বিধ্বস্ত হলে গাদ্দাফি একটি নর্দমার পাইপে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই পশ্চিমা-সমর্থিত বিদ্রোহীরা তাঁকে আটক করে এবং নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।
সূত্র: প্রথম আলো