বৃহত্তর ময়মনসিংহের শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসন ও বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল ময়মনসিংহ শহরে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে যানজট ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতাসহ নানা সংকট তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুসারে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের জনসংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭২২ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব প্রায় ৬ হাজার ৩১৫ জন। এ বাস্তবতায় পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ সহনশীলতা ও নাগরিক জীবনমান উন্নত করে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’।
তবে নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এখনো বেশ সীমিত। সংস্থাটির চেয়ারম্যান নিয়োগ পেলেও নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ কার্যালয় বা পর্যাপ্ত জনবল তৈরি হয়নি এবং জেলা গণপূর্ত ভবনের একটি কক্ষেই এর কার্যক্রম চলছে। কর্তৃপক্ষ কেবল ভবনের নকশা অনুমোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল মেয়াদে সামগ্রিক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই নগর রূপরেখা তৈরি করবে—তা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ ভাবনায় শহরের ওপর চাপ কমাতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন উপশহর গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এককেন্দ্রিক নির্ভরতা কমিয়ে ‘পলিসেন্ট্রিক সিটি’ বা বহুকেন্দ্রিক নগর মডেল বাস্তবায়ন, সমন্বিত ড্রেনেজ ও জলাধার সংরক্ষণ এবং কৃষিজমি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট জোনিং ম্যাপ প্রণয়নকে ময়মনসিংহের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো