১৯ অক্টোবর, আমার জন্মদিন। কাগজে-কলমে বয়স ২৯ হলো। অথচ এই বয়সটা মাত্র সাত দিনেই আটকে যেতে পারত! জন্মের ঠিক এক সপ্তাহ পর আমার ভয়াবহ ডায়রিয়া হলো। দিনে ৬০-৭০ বার পাতলা পায়খানা! সাত দিনের ছোট্ট একটা শরীর, তার ভেতরে আর কী-ই বা থাকে! একপর্যায়ে ডাক্তারও হাল ছেড়ে দিলেন।
আব্বু-আম্মুকে ডেকে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘এই বাচ্চা বাঁচবে না, আপনারা মানসিক প্রস্তুতি নিন।’ এরপরও একদম শেষ আশা হিসেবে আমার শিরায় স্যালাইন চলল, দেওয়া হলো অক্সিজেন। আমি টিকে গেলাম।সেই দিনগুলোর কথা আমার নিজের কোনো স্মৃতিতে নেই। থাকার কথাও নয়। জীবনের প্রথম মুখ ফুটে বলা শব্দ কিংবা প্রথম হাঁটতে শেখার গল্প মানুষ যেমন বাবা-মায়ের কাছে শোনে, আমিও তেমনি আব্বু-আম্মুর মুখে শুনেছি আমার মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসার সেই গল্প।
কিন্তু বড় হতে হতে একটা ভাবনা অনেকটা অবচেতনভাবেই আমার ভেতরে গেঁথে গেছে—ওই সাত দিনের পর থেকে জীবনে আমি যা কিছু পাচ্ছি, তার পুরোটাই বোনাস!
সূত্র: প্রথম আলো