কেবল একটি কবিতার জন্য অহোরাত্র শব্দের সাথে যাপন। অবাধ্য অক্ষরেরা চঞ্চল, অতিশয় অস্থির— সহসা ভেঙে দেয় শৃঙ্খলা। আমি তবু বিন্যাসে বিন্যাসে আঁকি এক মানচিত্র। দাবাড়ুর মাপা দানে যেভাবে চেনা যায় খেলা, শব্দের অভিঘাতে ঠিক সেভাবেই সরে যায় দৃশ্যপট— ভেসে ওঠে বিচিত্র আখ্যান; কখনো বিষাদলিপি, কখনো তীব্র কোলাহল, কখনো সাম্য ও সংহতির স্বর, কখনো বা নিস্পৃহ একাকিত্ব ও শাশ্বত অমরতা। কেবল একটি কবিতার জন্য শব্দ সাজাই।
অথচ শব্দেরা এখানে গড়ে তোলে নিজস্ব খেরোখাতা— রাজনীতি, অপশক্তি ও অপসংস্কৃতির চোরাবালি; কখনো দেশপ্রেমের কুশলী মুখোশ, কখনো দেশদ্রোহের সুনিপুণ অভিনয়। অক্ষরেরা ফের অবাধ্যতায় মাতে। পুনরায় বিন্যস্ত করি, আঘাত হানি— তাতে কার কী বা এসে যায়! ওরা তো নিজস্ব ব্যাকরণে শুধু বহুরূপী। কখনো পাশে এসে দাঁড়ায় এক দীর্ঘ প্রশ্নচিহ্ন, কখনো স্তব্ধ বিস্ময়— জিজ্ঞাসা বাড়ে, বিস্ময় ঘনীভূত হয়, কিন্তু উত্তর মেলে না।
কেবল একটি কবিতার জন্য তবু আমি অবাধ্য শব্দ কুড়োই।
সূত্র: প্রথম আলো
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
এই নিউজ সাইটটি মোবাইলে অ্যাপের মতো ইনস্টল করে দ্রুত ব্যবহার করুন।