অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান
ডাকিনি ডাকিনি বলে ডেকে গেল কোন সে ডাকিনী ইথারে প্লাবন জাগে তার চোরাশ্বাস, ফিসফিস ধ্বনির গুঞ্জরে আঁখিপাতা নড়ে, শুনি না তো কিছু আমি তো জন্মবধির, কেবল গর্ভের ওমে জননীর একদা শুনেছিলাম নাড়ির লহরে ডাকে আগত জীবন রক্তক্লেদে ভূমিতে লুটিয়ে পড়া সে শরীরে বাঁক নাই শ্রুতির আখর নাই, দেখার পলক নাই পাথুরে পাথুরে চোখে তবু কত শুনেছি যে দূর পারাবার পার হতে হতে মেঘে পরিযায়ীদের কন্ঠে নীরব কীর্তন ঠোঁটে জ্বলে বেমক্কা চুম্বন, বাতাস আছড় মারে দক্ষিণ দুয়ারখানা বীরের ছাতির মতো খুলে ঘুমায়েছি, পায়ে পায়ে নদীজল ঢোকে শিয়রে উজান করে গান, উরুতে ভাটির টান হৃদয় পঙ্কিল, নাভিসরোবরে ওষ্ঠ যেন পদ্মের ভাসান তর্জনী যেদিকে উঁচু হয়, সেদিকেই গলে পড়ে মৌন ইমারত ইটের ভগ্নস্তূপের পরে দাঁড়ায়েছে কাল–মহাকাল তবু বলো—ডাকিনি, ডাকিনি!
কেন তবে ঝড়ের মাতম নৈঃশব্দ্য মঞ্জরে ধ্বনির ফুলকি জ্বেলে মৌন পথ বেয়ে চলে ত্রস্ত নিশীথিনী তুমি তবে অশরীরী বুকে নিয়ে ফেরি করো আমার প্রেতকালের জীবনপঞ্জিকা তুমি তো ডাকিনী, উঁচা উঁচা দাঁতে লেগে আছে কালের মাংসদলা, মুহূর্তের টুঁটি চেপে ভাষার পিঞ্জরে লাগায়েছ হাহাকার উজালা বিপ্লবতোমারই সন্ধির মূলে ঘুম যায় চৈতন্য নিথরকোনো এক দৈত্য এসে দাঁতে ক্ষতে এঁকে চলে মুগ্ধ জাগরণঘুম যায় জাগর কপোত,ছিন্ন কপোতীর রক্তফোঁটা করতলে মাখামা নিষাদ মা নিষাদ বলে কোন আর্তনাদেঅরণ্য দ্বিখণ্ড হয়, হৃদয়বিচূর্ণ রক্তপুষ্পলতাদোলে বৃক্ষশাখায় শাখায়কে ডাকে...
সূত্র: প্রথম আলো
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
এই নিউজ সাইটটি মোবাইলে অ্যাপের মতো ইনস্টল করে দ্রুত ব্যবহার করুন।