শব্দগতভাবে ‘নিফাক’ বা মোনাফেকি এসেছে মরুভূমির চঞ্চল প্রাণী জারবোয়ার সুরঙ্গের গোপন পথ ‘নাফিকা’ থেকে, যার অর্থ আপাতদৃষ্টিতে প্রকাশ্য পথ থাকলেও আত্মগোপনে ভেতরে ভিন্ন রাস্তা রাখা। মক্কায় ইসলাম প্রচারের শুরুতে অমুসলিমরা প্রকাশ্য শত্রুতা দেখালেও মদিনায় হিজরতের পর মুসলিমদের প্রভাব বাড়লে প্রকাশ্যে ইসলামের অনুসারী দাবিদার অথচ অন্তরে শত্রুতা লালনকারী একদল কপট মানুষের উদ্ভব ঘটে।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে মোনাফেকদের চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা হয়েছে—কথা ও কাজের মধ্যে অমিল, সমাজে গোপনে অপরাধ ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা চালানো, সত্য গ্রহণে দ্বিধা বা সংশয় এবং পার্থিব স্বার্থের মোহ। হাদিস অনুযায়ী এদের প্রধান নিদর্শন হলো মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং আমানতের খেয়ানত করা। তারা প্রকাশ্যে এক রূপ ধারণ করে আর ভেতরে চরম আক্রোশ ও মৃত্যুভয় লালন করে।
বিশেষজ্ঞরা কপটতাকে অবচেতন, পরিস্থিতিগত এবং চতুরতামূলক—এই তিন ভাগে ভাগ করেছেন, যার মধ্যে স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সচেতনভাবে করা চতুরতামূলক কপটতা সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী। ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর মতে, মোনাফেকি হলো অন্তর্দৃষ্টির দুর্বলতা ও সংকল্পের অভাব থেকে জন্ম নেওয়া এক বিষাক্ত বৃক্ষ, যা মিথ্যা এবং লোকদেখানো স্বভাবের মাধ্যমে সমাজ কাঠামোকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সূত্র: প্রথম আলো
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
এই নিউজ সাইটটি মোবাইলে অ্যাপের মতো ইনস্টল করে দ্রুত ব্যবহার করুন।