সিরিয়ার শিশু আয়লানের নিষ্প্রাণ শরীরটি এভাবেই ভেসে এসেছিল তুরস্কের একটি সৈকতে। ভারতের ওডিশা রাজ্যের পুরী সৈকত থেকে তোলা ছবি
সমুদ্রের ধারে সেই ছোট্ট শিশুটি—আয়লান কুর্দি—যেন ঘুমিয়ে আছে আজও;তার মুখে লেগে আছে দূর দেশের বালু,চুলে পরশ মাখায় শীতল হাওয়ার নরম হাত—মনে হয়, মা-বাবার আঙুল ছেড়েসামান্য একটু খেলতে গিয়েছিল সে—নীল জলের কিনারায়।কত রাত পেরিয়ে গেছে—সমুদ্র তার ঢেউ গুনে যায়,চাঁদ তার রুপালি আলো বিছিয়ে রাখে;কেবল সেই শিশুটি আর উঠে দাঁড়ায় না—তার ছোট্ট জুতোর ভেতরহয়তো এখনো আটকে আছেএকটি অসমাপ্ত পথের ধুলো।সে কি জানত—মানুষের পৃথিবী এত বড়,তবু মানুষের হৃদয় কখনো কখনোএকটি শিশুর জন্যও এত ছোট হয়ে যায়?যে পৃথিবীতে পাখিরা সীমান্ত মানে না,নদী পাসপোর্ট রাখে না, বাতাস কোনো দেশের নাগরিক নয়—সেই পৃথিবীতেই মানুষমানুষের জন্য কঠিন সীমান্ত আঁকে।আয়লান, তুমি কি দেখেছিলে শেষ মুহূর্তেতোমার সামনে কোনো আকাশ ছিল?নাকি শুধু সমুদ্র—অন্ধকার, অনন্ত, কালোজলে ভরা?তুমি কি মাকে ডাকতে চেয়েছিলে?বাবার হাত খুঁজেছিলে?নাকি ক্লান্ত শিশুর মতোবালুর বুকে মাথা রেখে ভেবেছিলে—‘এ পৃথিবী বুঝি ঘুমানোর জন্যই এত নরম!’তোমার ছোট্ট দেহটিআজ পৃথিবীর বিবেকের আয়না;তোমার নিস্তব্ধ চোখেদেখা যায় যুদ্ধের ধোঁয়া, শরণার্থীর দীর্ঘ পথ,ক্ষুধার্ত মানুষের কাঁপা কাঁপা হাত,আর সভ্যতার উঁচু প্রাসাদেরবন্ধ জানালা।হাজার বছর পরেযদি কোনো কবি এই পৃথিবীর কথা লিখেন,তিনি হয়তো বলবেন—‘আসলে সাগরের পানি মিষ্টিই ছিল,একদিন সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে একটি শিশু মারা গেল;মনের দুঃখে পৃথিবীর সব সমুদ্র বুকের সব জল ঝেড়ে...
সূত্র: প্রথম আলো
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
এই নিউজ সাইটটি মোবাইলে অ্যাপের মতো ইনস্টল করে দ্রুত ব্যবহার করুন।