অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান। গ্রাফিকস: প্রথম আলো
শূন্যগর্ভ কেন্দ্রীয় কক্ষে কোনো দরজা নেই— তবু কত ভিক্ষু ঢুকে যায় প্রতিদিন। ইটের বুকে বসে থাকে পুরোনো বৃষ্টির শব্দ; পোড়ামাটির ফলক থেকে হঠাৎ নেমে আসে একটি হরিণ। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি— তোমার পথ কোন দিকে? সে ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকে, কোনো উত্তর দেয় না। চত্বরের মাঝখানে বাতাস ঘুরে ঘুরে বলে— যা পূর্ণ, তারও একদিন শূন্য হতে হয়।
আমি নিজের বুক ছুঁয়ে দেখি— সেখানে একটি বিহার ধীরে ধীরে নিঃশব্দ হচ্ছে।প্রদক্ষিণভিক্ষুরা চলে গেছে—পথটি রয়ে গেছে।ইটের শরীরেআর নেইতাদের পায়ের উষ্ণতা।উত্তরের পঁয়তাল্লিশটি কক্ষ—চুপ।অন্য তিনদিকেচুয়াল্লিশটি করেনীরবতা।আমি হাঁটি—এক পা,তারপর আরেক পা।দেয়াল বেয়ে উঠে যায়একটি টিকটিকি।মনে হয়,কোনো পুরোনো প্রার্থনাভুল করেএখনো পড়ে যাচ্ছে।আমি ঘুরি—আবার ঘুরি—কেন্দ্রে কিছুই নেই।শুধুআমার ছায়াআমার সঙ্গে হাঁটে।তখন বুঝি—পথের শেষেশূন্যতা নয়;এই হাঁটা,এই থামা,এই ফিরে-ফিরে আসাইছিল মন্দির।পোড়ামাটির প্রাণীপোড়ামাটির ফলকে—হাতি,হরিণ,মানুষ।সবাই থেমে আছে।শুধু বাতাসথামে না।একদিনএকটি সিংহের মুখ দিয়েজল নেমেছিল—এখন সেখানেদুপুরভরধুলো জমে থাকে।যে হাতফলকটি বানিয়েছিল,তার কোনো নাম নেই।যে চোখতাকে দেখেছিল—তারও নেই।তবুমাটির গায়েআঙুল রাখলেকেন যেনশরীরের ভিতরঅল্প আলোজ্বলে ওঠে।সম্ভবত জীবন এমনই—নাম মুছে যায়,স্পর্শ থেকে যায়।দূরদেশের ভিক্ষুতিব্বত থেকেকেউ এসেছিল—চীনের দিক থেকে কেউরেখে গিয়েছিলনীরব জুতো।...
সূত্র: প্রথম আলো
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
এই নিউজ সাইটটি মোবাইলে অ্যাপের মতো ইনস্টল করে দ্রুত ব্যবহার করুন।